হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে ২০২৬ সালের পূর্ণিমার তারিখের সম্পূর্ণ তালিকা, সাথে পূর্ণিমার তিথির সময়, ব্রতের নিয়ম

২০২৬ সালের হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে পূর্ণিমার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা নিচে দেওয়া হলো। এখানে পূর্ণিমা শুরুর ও শেষের সময় এবং ব্রত পালনের সাধারণ নিয়মাবলী আলোচনা করা হয়েছে।

২০২৬ সালের পূর্ণিমার তালিকা (ভারতীয় সময় অনুসারে)

এই সময়গুলো মূলত ভারতীয় প্রমাণ সময় (IST) অনুযায়ী দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পঞ্জিকাভেদে কয়েক মিনিটের তারতম্য হতে পারে।

মাস (ইংরেজি)পূর্ণিমার নামপূর্ণিমা আরম্ভ (তারিখ ও সময়)পূর্ণিমা সমাপ্ত (তারিখ ও সময়)
জানুয়ারিপৌষ পূর্ণিমা২ জানুয়ারি, রাত ৮:৫১৩ জানুয়ারি, সন্ধ্যা ৭:১০
ফেব্রুয়ারিমাঘ পূর্ণিমা১ ফেব্রুয়ারি, সকাল ৯:২৫২ ফেব্রুয়ারি, সকাল ৭:২০
মার্চফাল্গুন পূর্ণিমা (দোল)৩ মার্চ, রাত ১২:৩৫৩ মার্চ, রাত ১০:৫০
এপ্রিলচৈত্র পূর্ণিমা১ এপ্রিল, বিকাল ৩:৪৬২ এপ্রিল, দুপুর ২:১০
মেবৈশাখ পূর্ণিমা (বুদ্ধ পূর্ণিমা)১ মে, ভোর ৫:৪৯২ মে, রাত ৪:০৭
মে/জুনজ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমা (বট সাবিত্রী)৩০ মে, সন্ধ্যা ৬:৫৫৩১ মে, বিকাল ৫:১০
জুনআষাঢ় পূর্ণিমা (গুরু পূর্ণিমা)২৯ জুন, সকাল ৬:৪১৩০ জুন, ভোর ৪:৫০
জুলাইশ্রাবণ পূর্ণিমা (রাখী পূর্ণিমা)২৮ জুলাই, বিকাল ৫:০০২৯ জুলাই, দুপুর ৩:০৭
আগস্টভাদ্রপদ পূর্ণিমা২৭ আগস্ট, রাত ২:৪৭২৭ আগস্ট, রাত ১২:৫৮
সেপ্টেম্বরআশ্বিন পূর্ণিমা (কোজাগরী)২৫ সেপ্টেম্বর, দুপুর ১২:২৪২৬ সেপ্টেম্বর, সকাল ১০:৫১
অক্টোবরকার্তিক পূর্ণিমা (রাস)২৪ অক্টোবর, রাত ১০:০৫২৫ অক্টোবর, রাত ৮:৫৪
নভেম্বরঅগ্রহায়ণ পূর্ণিমা২৩ নভেম্বর, সকাল ৮:০৫২৪ নভেম্বর, সকাল ৭:০৬
ডিসেম্বরমার্গশীর্ষ/পৌষ পূর্ণিমা২২ ডিসেম্বর, সন্ধ্যা ৬:৩৯২৩ ডিসেম্বর, সন্ধ্যা ৫:৫৫

পূর্ণিমা ব্রতের সাধারণ নিয়মাবলী

পূর্ণিমার দিন ব্রত পালন করা অত্যন্ত পুণ্যদায়ক বলে মনে করা হয়। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা এদিন সাধারণত সত্যনারায়ণ পূজা বা লক্ষ্মী পূজা করে থাকেন।

  • স্নানের নিয়ম: পূর্ণিমার দিন ব্রহ্মমুহূর্তে বা সকালে সূর্যোদয়ের আগে স্নান করা শ্রেষ্ঠ। সম্ভব হলে পবিত্র নদীতে স্নান করুন, নতুবা বাড়িতে স্নানের জলে সামান্য গঙ্গা জল মিশিয়ে নিন।

  • উপবাস: পূর্ণিমার দিনে নিরামিষ আহার গ্রহণ করতে হয়। অনেকে নির্জলা উপবাস করেন, আবার অনেকে ফল ও দুধ খেয়ে ব্রত পালন করেন।

  • চন্দ্র দর্শন ও অর্ঘ্য: পূর্ণিমার রাতে চাঁদ দেখার পর চন্দ্রদেবকে জল ও দুধ দিয়ে অর্ঘ্য নিবেদন করা হয়। এতে মানসিক শান্তি বৃদ্ধি পায়।

  • দান-ধ্যান: এদিন গরিব ও দুস্থদের অন্ন বা বস্ত্র দান করলে অক্ষয় পুণ্য লাভ হয়।

  • বর্জ্য: পূর্ণিমার দিনে আমিষ ভোজন, মদ্যপান এবং কলহ থেকে দূরে থাকা উচিত।


বিশেষ দ্রষ্টব্য:

পূর্ণিমা তিথি সাধারণত দুই দিন ব্যাপ্ত থাকলে, যে দিন সূর্যাস্তের সময় বা চন্দ্রোদয়ের সময় পূর্ণিমা থাকে, সেই দিনটিই ব্রত ও পুজোর জন্য প্রশস্ত বলে গণ্য হয়। ফাল্গুন পূর্ণিমায় দোলযাত্রা এবং আশ্বিন পূর্ণিমায় কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা বিশেষ মাহাত্ম্য বহন করে।